জিটিবি ও গ্যাপেক্সপো ২০২৬ এর উদ্বোধন
দেশের পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়নে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন জরুরি
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৭:০৪, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৭:০৬, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
জিটিবি ২০২৬’ (গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ) ও গ্যাপেক্সপো ২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয় আজ বুধবার
প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অবস্থান আরও টেকসই ও শক্তিশালী করতে হলে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সহায়তার বিকল্প নেই বলে গার্মেন্ট টেকনোলজির প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মত দিয়েছেন বক্তারা। বুধবার, রাজধানীর বুসন্ধরায় তৈরি পোশাক প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী ‘জিটিবি ২০২৬’ (গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ) ও গ্যাপেক্সপো ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা বলেন, শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়া জরুরি।
এএসকে ট্রেডশো অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজনে চারদিনেরএ প্রদর্শনী রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) এক্সপো ভিলেজে শুরু হয়েছে। এছাড়াও আইসিসিবিতে চলছে বাংলাদেশ ইয়ার্ন ফ্যাব্রিক্স অ্যাক্সেসরিজের ১২ তম আসর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাতের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশ শক্তিশালী অবস্থানেই রয়েছে। তবে প্রতিযোগিতামূলক এ বাজারে আমাদের সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। সেজন্য শুধু শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল না থেকে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কমিয়ে কার্যদক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।’
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এফসিএমএ বলেন, ‘বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ শিল্পায়িত রাষ্ট্র হওয়ার সক্ষমতা রাখে। আর সে লক্ষ্য অর্জনে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমানো ও নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরী। এজন্য প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে। যত বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হবেন, তত বেশি ভোগান্তি কমবে’।
বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘গার্মেন্টস মেশিনারিজ, অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য ও এ সেক্টরের কাঁচামাল ইত্যাদি প্রচার, প্রসার, ক্রেতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে দেশের পোশাক শিল্পকে এগিয়ে নিতে একত্রে কাজ করছে বিজিএপিএমইএ ও এএসকে। এ মেলা তারই প্রতিফলন’।
জিটিবি ২০২৬- এ পোশাক শিল্পের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, অ্যাক্সেসরিজ, প্যাকেজিং, ইয়ার্ন ও ফেব্রিকস প্রদর্শন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। ‘জিটিবি ২০২৬’ এর পাশাপাশি একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং এর বৃহত্তম প্রদর্শনী 'গ্যাপ এক্সপো ২০২৬' এবং ‘বাংলাদেশ ইয়ার্ন ফ্যাব্রিক্স অ্যাক্সেসরিজ ২০২৬’।
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বৃহত্তম এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে ১৫টিরও বেশি দেশ। ১ হাজার ৫০০টি বুথের মাধ্যমে ৪৫০টিরও বেশি ব্র্যান্ডের পণ্য প্রদর্শন করছে তারা।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অবস্থান আরও টেকসই ও শক্তিশালী করতে হলে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। জিটিবির মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা দেশ-বিদেশের সর্বাধুনিক সব প্রযুক্তি এক ছাদের নিচে দেখতে পারছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের ফ্যাক্টরির জন্য তা সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন’।
গত ২২ বছর ধরে 'জিটিবি' বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কাটিং-এজ সেলাই, ফিনিশিং, এমব্রয়ডারি যন্ত্রপাতি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহের জন্য সবচেয়ে পছন্দের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, 'গ্যাপ এক্সপো' হচ্ছে বিজিএপিএমইএ এর সদস্যদের গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং-এর একমাত্র এবং বৃহত্তম প্রদর্শনী।
আজ ১৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৭ জানুয়ারি প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সূত্র: ইমপ্যাক্ট পিআর
